২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামী যুগে সাহিত্য চর্চা

আপলোড সময় : ২৪-০২-২০২৬
ইসলামী যুগে সাহিত্য চর্চা
 

[তৃতীয় পর্ব]
 
     সাহিত্য চর্চায় সাহাবিদের ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের জানা প্রয়োজন।এজন্যে প্রথমেই জানতে হবে ইসলাম পূর্ব আরবের সাহিত্য চর্চার অবস্হা কেমন ছিল। ড.মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ রাসূল( সাঃ)ও সাহাবাদের সাহিত্য চর্চা শীর্ষক এক প্রবন্ধে বলেন,বাংলায় আমরা যাকে সাহিত্য বলি আরবীতে তার অর্থ দাড়ায়-শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, আচার-আচরন, নৈতিকতা ইত্যাদি। আরবী সাহিত্যে আদব শব্দটির ব্যবহার দেখা যায় না।
সাহিত্যকে সাধারন ভাবে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-গদ্য ও পদ্য।ছন্দ ও অন্তমিলের ভিত্তিতে বিন্যস্ত নয় এমন শিল্প -মান সম্পন্ন কথাকে গদ্য বলে।আবার যাতে ছন্দ ও অন্ত মিল থাকে তাকে পদ্য বলে।
 
জাহেলি যুগের আরবরা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কাজ-কর্মে লেখার ব্যবহার করতো।তা কি্ন্তু নির্ভেজাল সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্যে নয়।সেই লেখা ছিল, অতি সাধারন,সাদামাটা মানের।পাশাপাশি তাদের ছিলো খুতবা বা বক্তৃতা-ভাষন দানের রীতি।তাদের সাহিত্যের অপর শাখাটি ছিলো পদ্য।এ ক্ষেত্রে তাদের খ্যাতি ছিলো বিশ্ব ব্যাপী।অলন্কার মন্ডিত ভাষা ও বাগ্মিতায় জাহেলী আরবরা অতি উঁচুতে পৌঁচে গিয়েছিল। 
 
 ইসলাম পূর্ব আমলের আরবরা ছিলো একটা কাব্য রসিক জাতি।তাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কবি ও কবিতার প্রভাব ছিল অপরিসীম।তাদের নিকট কবির স্হান ছিলো সবার উপরে।এজন্য তারা কবি ও নবীকে একই কাতারের মানুষ বলে গন্য করতো।ইবনে রাশীক আল-কায়রোয়ানী(মৃ ৪৫৬/১0৬৪)জাহেলী আরবের কবিদের স্হান ও মর্যাদার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আরবে কোন গোত্রে যখন কোন কবি প্রতিষ্ঠা লাভ করতো তখন অন্যান্য গোত্রের লোকেরা এসে ঐ গোত্রকে অভিনন্দন জানাতো। এ উপলক্ষে তারা নানা রকম খাদ্যদ্রব্য তৈরী করতো।বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো সমবেত হয়ে বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ করতো।পরুষ ও শিশু-কশোর সবাই একত্র হয়ে আনন্দ প্রকাশ করতো।

এর কারণ কবিরা হলো তাদের মান মর্যাদর রক্ষক,বংশের প্রতিরোধক এবং নাম ও খ্যাতির প্রচারক।জাহেলী আরবে তখন কাব্যচর্চার বন্যা বয়ে যেতো।


আমাদের প্রিয় নবী(সাঃ)যখন হিজরত করে মদীনায় এলেন তখন আনসারদের প্রতি ঘরে কবিতা চর্চা চলতো।কবিতা বলা হতো।আরবদের সাহিত্যের উন্নতির এমনি এক পর্যায়ে ইসলামের অভ্যুদয় ঘঠে এবং আলকুরআন অবতির্ন হয়।তখন আরবী সাহিত্যের গদ্য ও পদ্য উভয় শাখার ব্যাপক চর্চা হয়।গদ্যের কোন লিখিত রুপ না থাকলেও মৌখিক গদ্য তথা বক্তৃতা বা ভাষন-এর যথেষ্ট উন্নতি ঘটৈ এবং গৌটা আরবে এর ব্যাপক চর্চা হতে থাকে।
 
জাহিলী যুগের যে সকল জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্য সংস্কৃতিতে ইসলাম নতুনত্ব আনে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কবিতা ও খুতবা বা বক্তৃতা বা ভাষন। এ যুগে মুসলমানদের দাওয়াতী কার্যক্রম, বিজয় অভিযান, যুদ্ধ-বিগ্রহ প্রভৃতিতে মুসলমানদের বক্তৃতা-ভাষন এর বেশি প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল।একারণে মহানবী(সা:)মুসলিম কবিদেরকে তখন কবিতা লিখতে উৎসাহিত করতেন।এদের মধ্যে একজন ছিলেন কবি হাসসান বিন সাবিত। রাসুল (সা:) কে নিয়ে এ মুসলিম কবি হাসসান বিন সাবিতের লেখা প্রথম কবিতা—
 
তাঁর নূরানী ঝলক যখন
সমুজ্জল হয়ে ফুলকে ওঠে
আমি তখন ভয়ে চোখ লুকাই
 
আমার তালু তলে শংকা হয়
দৃষ্টি আমার নিবিয়ে দেবে
সেই সে জ্যোতি
 
ভিতি আমার অক্ষমতায়
দৃষ্টি দিতে তাহার প্রতি। 
(অনুবাদ: ড. আবদুল বাতেন মিয়াজি)
 
আমাদের প্রিয় নবী (সা:) কবিতা এতো বেশী পছন্দ করতেন যে, হাতের কাছে যা পেতেন তা দিয়ে কবিদের পুরষ্কৃত করতেন। একবার কাব-ইবনে-যুহাইর নামে এক কবির কবিতা (বানাত সুয়াদ কাব্যগ্রন্থ) শুনে এতোই আনন্দিত হলেন যে, নিজের গায়ের ‘বুরদা’ নামের ইয়ামেনের তৈরি চাদরটি তার গায়ে পরিয়ে দেন।
                                                        (চলবে)


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ